২৪ ঘন্টাই খবর

কুলিয়ারচরে মামুনুল হক সমর্থকদের বিক্ষোভ ও হামলায় পুলিশ ও সাংবাদিকসহ আহত-১০। গ্রেফতার-৫

কুলিয়ারচরে মামুনুল হক সমর্থকদের বিক্ষোভ ও হামলায় পুলিশ ও সাংবাদিকসহ আহত-১০। গ্রেফতার-

 

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ

 

সোনারগাঁও রয়েল রিসোর্ট থেকে নারীসহ মামুনুল হক জনতার হাতে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে মামুনুল হকের সমর্থকদের বিক্ষোভ ও হামলায় পুলিশ ও সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হওয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে ৫ জন।

 

জানা যায়, মামুনুল হককে লাঞ্চিত করার খবর ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে শনিবার (৩এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ৯ টার দিকে উপজেলার উছমানপুর ইউনিয়নের নাজিরদীঘি, পৌর শহরের বড়খারচর ও পূর্ব গাইলকাটাসহ আশপাশ এলাকা থেকে মামুনুল হক সমর্থকরা লাঠি ও দেশীয় অস্ত্রাদিসহ পৃথক পৃথক ভাবে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কুলিয়ারচর বাজারে প্রবেশ করে। পরে মিছিলটি কুলিয়ারচর বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কুলিয়ারচর থানার সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিয়ে ইটপাটকেল ছুঁড়ে। পরে পুলিশও একপর্যায়ে তাদের দাওয়া করে। পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের দাওয়া-পাল্টা দাওয়ায় পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হতে থাকে। এ সময় পুলিশকে উদ্দেশ্য করে বিক্ষোভকারীরা ইটপাটকেল ছুঁড়ে। এভাবে রাত ১০ টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পুলিশের সাথে দাওয়া-পাল্টা দাওয়া চলতে থাকে।

 

একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা পিছু হটে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সরকারি বাসভবনে (কোয়াটারে) ইটপাটকেল ছুঁড়ে ভাঙচুর করে এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের সামনে মহারাজ ত্রৈলোক্যনাথ চক্রবর্তীর পাঠাগারের জানালা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাইনবোর্ড ভাঙচুর করে তারা। দাওয়া-পাল্টা দাওয়ার সময় ইটপাটকেলের আঘাতে পুলিশ ও সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ আহত হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে। পরে কুলিয়ারচর ইমাম ওলামা পরিষদের সভাপতি ইলিয়াস মাহমুদ কাসেমী রাসেলের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

 

এ ঘটনার খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তাহিয়াত আহমেদ চৌধুরী ও ভৈরব সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার রেজুয়ান দীপু বিশেষ ফোর্স নিয়ে কুলিয়ারচর থানায় অবস্থান করে।

 

এ ব্যাপারে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ.কে.এম সুলতান মাহমুদ বলেন, এ ঘটনায় থানার এস আই মো. সাদ্দাম মোল্লাহ কে বাদী করে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত নামা ৫০০ জনের নামে থানায় একটি মামলা (নং-২) রুজু করা হয়েছে। রাতে অভিযান চালিয়ে এজাহার নামীয় ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এজাহার নামীয় ছাড়াও ঘটনার সময় তোলা ছবি ও ভিডিও দেখে চিহ্নিত করে ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.