২৪ ঘন্টাই খবর

অবৈধ স্থাপনায় যোগিনীঘাট খালের অস্তিত্ব বিলীন

সাখাওয়াত হোসেন মানিক : মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার দক্ষিন ইসলামপুরের ঐতিহ্যবাহী যোগিনীঘাট খাল। খালটির প্রবেশ মুখ ধলেশ্বরী নদীর যোগিনীঘাট এলাকায়। সেখান থেকে শুরু করে প্রায় ২ কিলোমিটার পশ্চিমে কলেজ রোড এবং পাঁচঘড়িয়াকান্দি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। খালটি খনন করে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছিলো অনেক আগে। স্থানীয়দের অভিযোগ দখল, দূষণ আর ময়লা ফেলে যে যার মত করে খালটিকে দখল করে নিচ্ছে। খালটির দুপাশে দুষন আর দখল করে নির্মান করা হয়েছে বিভিন্ন রকমের দোকানপাট। খালটির প্রবেশ মুখের দু”পাশে বালু ভরাট করে খালে পানি প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয়রা। পাশাপাশি দক্ষিন ইসলাম যোগিনীঘাট, মাদরাসা হয়ে শুরু করে কলেজ পর্যন্ত খালটির বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে প্রায় ৩০ টিরও অধিক অবৈধস্থাপনা । পাশাপাশি ময়লা ফেলে খালটির পানি প্রবাহ বন্ধ করে দেয়া হয়। এছাড়াও খালটির দু”পাশে থাকা স্থানীয় বাসিন্ধারা সব ধরনের ময়লা আবর্জনা খালে ফেলে খালটিকে ময়লার ভাগাড়ে পরিনত করেছে। খালটিতে ভরা বর্ষায় প্রচন্ড পানি চলাচল করলেও এখন খালটির প্রবেশমুখে পলি জমার কারনে জোয়ার ভাটার আগমন ঘটছে না। তবে পুরো খালটিতে ফেলে দেয়া ময়লা আবর্জনার নিংরানো পানি, বিভিন্ন ফ্যাক্টরির বিষাক্ত পানি এই খালটিতে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। পানিগুলো সরাসিরি ধলেশ্বরী নদীতে চলে যাচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীটির উৎপত্তি স্থল যোগিনিঘাট এলাকার ধলেশ্বরির কালিদাস নদি থেকে। খালের নোংরা পানির কারনে ধলেশ্বরী নদীর পানি কি পরিমান দূষিত হচ্ছে তার চিহ্নগুলো স্পষ্ট হয়ে আছে ধলেশ্বরী নদীর কালিদাসের তীর জুড়ে। পুরো খালটির নদীর প্রবেশ মুখ থেকে শুরু করে প্রায় যোগিনীঘাট থেকে শুরু করে দক্ষিন ইসলামপুর বিস্কুট ব্যাকারি পর্যন্ত খালটির উপর গড়ে উঠেছে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সেখান থেকে দক্ষিন ও পশ্চিম দিক পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে দখল চিত্র বিদ্যমান। জানা গেছে উপজেলা ভুমি অফিস থেকে কোন প্রকার জমি লিজ না নিয়েই চলছে এ অবৈধ স্থাপনা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম। সাধারন মানুষ নদী আর খালটি দখলের হাত রক্ষা করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেও কোন সুফল পায়নি বলেও অভিযোগ করেছে স্থানীয় সচেতন মহল। অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান করা হোক এমনটাই দাবি স্থানীয় জনসাধারনের। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন অফিস সুত্র জানান, নদী খাল দখল ও দূষণে শাস্তি কঠোর করেছে সরকার। এজন্য জাতীয় নদী রক্ষা কমশিন আইন, ২০২০ এর খসড়া করেছে কমিশন। খসড়া আইনে নদীর দখল ও দূষণের জন্য র্সবোচ্চ শাস্তি ১০ বছররে কারাদন্ড বা পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। নদী ,খাল দখল-দূষণ রোধে সংস্থাগুলোকে যেমন- বিআইডব্লিউটিএ পরিবেশ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন র্বোড, জেলা প্রশাসনসহ অন্যান্যদরে যে ক্ষমতা দেয়া আছে সেটা তারা ব্যবহার করবে। তবে দন্ডবিধিতে নদীর বা খালে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্থ্য করার শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.