২৪ ঘন্টাই খবর

শুল্ক সুবিধা চেয়েছে মোটরসাইকেল উৎপাদন শিল্প

কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক সুবিধা চেয়েছে মোটরসাইকেল নির্মাতা শিল্প মালিকদের সংগঠন মোটরসাইকেল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমএমইএবি)। সংগঠনটি বলেছে, মোটরসাইকেল নির্মাণে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক সুবিধা দেওয়া হলে তারা কম দামে মোটরসাইকেল বিক্রি করতে পারবে।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর)-এর কাছে আগামী ২০২১-২০২২ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে শুল্ক সুবিধা চেয়েছে এমএমইএবি এবং বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেড (বিএইচএল)। বাজেট প্রস্তাবে বিএইচএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিমিহিকো কাতসুকি বলেছেন, বিশাল জনসংখ্যা ও নিরবচ্ছিন্ন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের মোটরসাইকেলের বাজার অত্যন্ত আশাব্যাঞ্জক। এ খাতে শুল্ক সুবিধা পেলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থায় মোটরসাইকেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এতে সরকারেরও রাজস্ব আয় বাড়বে।

তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে সরকারের শিল্প স্থানীয়করণ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাঁচামাল থেকে ফ্রেম তৈরি এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ তৈরি শুরু করেছি। এছাড়াও, আমরা স্থানীয় গ্রাহকদের জন্য মোটরসাইকেলের আরও সাশ্রয়ী দামের জন্য বিশ্বমানের সর্বোচ্চ মানের বজায় রেখে আমাদের কারখানায় ইঞ্জিন অ্যাসেমব্লিং শুরু করেছি।

ইতোমধ্যে শুল্ক ছাড় সুবিধা পেতে বিএইচএল হুন্ডা স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী কম্লিটলি নকড ডাউন (সিকেডি) শর্তে মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন আমদানি করা হচ্ছে। মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনকে মোট ২০০ এরও বেশি অংশে ভাগ করা হয়েছে।  এর মধ্যে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে অন্তত  ৩২টি অংশ, যা আলাদা করা প্রয়োজন।

হোন্ডা বাংলাদেশ-এর পক্ষে বলা হয়েছে, তারা আমদানি করা কাঁচামাল থেকে চ্যাসিস এবং সুইং-আর্ম তৈরি করছে, কিন্তু এ খাতে তারা কোনো শুল্ক সুবিধা পাচ্ছে না।  এ কারণে, অন্যান্য অংশের উৎপাদন যেমন জ্বালানি ট্যাংক এবং প্লাস্টিকের বিভিন্ন যন্ত্রাংশের আরও স্থানীয়করণে বিএইএলকে অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে বাজেট প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, এমএমইএবি-এর বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকার মোটরসাইকেলের সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক বাড়ায়নি।  তবে, এনবিআর স্থানীয় উপাদান তৈরিতে মূল্য সংযোজন করের ছাড় প্রত্যাহার করেছে।

এ বিষয়ে বাজেট প্রস্তাবে এমএমইএবির সভাপতি হাফিজুর রহমান খান বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত মোটরসাইকেল শিল্পের বিকাশে সহায়ক হবে না এবং এটি স্থানীয় বিক্রেতাদের জন্য সহায়ক হবে না।

বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সরকারের নীতিনির্ধারণী সহায়তায় দেশি মোটরসাইকেলের বাজার সম্প্রসারিত হলে বিদেশ থেকে মোটরসাইকেল আমদানি কমবে। এতে একদিকে দেশি শিল্পের প্রসার হবে অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। একইসঙ্গে সরকারের আয়ও বাড়বে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.