২৪ ঘন্টাই খবর

আলুর ন্যায্য মুল্য না পেয়ে কৃষকরা দিশেহারা!

মোঃ নাসির আহম্মেদ ঃ মুন্সীগঞ্জ জেলাকে বলা হয় আলুর জেলা। দেশের অন্যান্য জেলার চেয়ে মুন্সীগঞ্জে আলুর ফলন অনেক বেশী এবং এর স্বাদ ও অন্য জেলার চেয়ে বেশি। দেশের চার ভাগের তিনভাগ আলুই উৎপন্ন হচ্ছে এই জেলাতে। মুন্সীগঞ্জের কৃষকদের প্রধান খাদ্য শস্য হচ্ছে আলু এ বছর আলু উৎপাদনের ফলন ও হয়েছে বেশি। একেবারে বাম্পার ফলন। তবুও কৃষকের মনে স্বস্তি নেই কারন তারা আলুতে ন্যায্য মুল্য পাচ্ছে না।

মুন্সীগঞ্জের মাকাহাটির আলু চাষী সিরাজ শিকদার, বাবুল শিকদার, বাবুল বেপারী, বাচ্চু বেগ, আনোয়ার মোল্লা, আবু তাহের মোল্লা, মোকলেস মল্লিক, আবুল সরকার ও আনিস সরকারের সাথে কথা হলো। তারা বলছেন, কেজি প্রতি আলু রোপন করতে তাদের ব্যয় হয়েছে জমি চাষ, আলু রোপন, পানি সেচ এবং সর্বশেষ আলু উঠানো নিয়ে শ্রমিক মজুরি বাবদ ১২.৫০ থেকে ১৩ টাকা। এখন আলু উঠানোর পর হিমাগারে নিয়ে সংরক্ষন বাবদ কেজি প্রতি ৬ টাকা খরচ হয়েছে। সর্বমোট ১৮ থেকে ২০ টাকা লাগছে আলু বপনে। কিন্তু বিক্রয়মুল্য তারা সেটা পাচ্ছে না। তাদের মধ্যে অনেক কৃষকই বেশী ব্যয়ের জন্য এবং ন্যায্য মুল্য না পাওয়াতে জমি থেকে আলু তুলে সেখানেই বিক্রি করে দিয়েছে। হিমাগারে নিতে হলে আরও ব্যয় বাড়বে এ জন্য সেখানে রাখতে চাচ্ছে না। এরপর ও আলু চাষীগন বিভিন্ন হিমাগারে আলু সংরক্ষনের জন্য নিয়ে যাচ্ছে, যদি পরে কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে পারে এই আশায়। মুন্সীগঞ্জের আলু চাষীরা আলু সংরক্ষন ও নির্ধারিত ন্যায্য দামে বিক্রির জন্য প্রধানমন্ত্রীর ও কৃষিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তারা বলছেন, এতে আমরা লাভবান না হলেও ক্ষতিগ্রস্থ হবোনা। এ বছর মুন্সীগঞ্জে ৩৮,৫০০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়েছে। ফলনও হয়েছে অনেক বেশী। কিন্তু সংরক্ষনের অভাবে আলু অল্প দামেই বিক্রি করে দিতে হচ্ছে কৃষকদের। মুন্সীগঞ্জে প্রায় ৬৫টি হিমাগার রয়েছে আলু সংরক্ষনের জন্য। কিন্তু এতেও আলু পুরোপুরি সংরক্ষন সম্ভব হচ্ছে না।

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার জে এম জে মোল্লা আইস এন্ড কোল্ড ষ্টোরের ম্যানেজার মোঃ হোসেন লিখনের সাথে সাক্ষাৎকালে তিনি বলেন, গত বছর যে পরিমান আলু সংরক্ষন করেছিলাম তাতে আমাদের হিমাগারটি পুরোপুরি ভরে নি। কিন্তু এ বছর আলুর ফলন বেশী হওয়াতে যে ভাবে আলু আসছে তাতে হিমাগার ভরে গেছে। অনেক আলু বাইরে পড়ে আছে। হিমাগারে সংরক্ষন সম্ভব হচ্ছে না। কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায়, সরকার থেকে বলা হচ্ছে যে কৃষকরা যার যার গৃহে একটি নির্দিষ্ট আলু ঘর তৈরি করেও সেখানে ৩ থেকে ৪ মাস আলু সংরক্ষন করতে পারে। এতে হিমাগারের খরচ ও হবে না এবং ৩-৪ মাস পরে আলুর দর কিছুটা বাড়লেও তারা সে আলু বিক্রি করে কিছুটা লাভবান হতে পারবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.