২৪ ঘন্টাই খবর

একজন মোসাঃ ইসমত আরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা

গোলাম সারোয়ার :

কাপাসিয়া উপজেলার প্রথম নারী নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাঃ ইসমত আরা। নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে প্রথম কর্মস্থল হিসেবে কাপাসিয়ায় যোগদান করেন তিনি। মহিলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনেকেই বিষয়টিকে ইতিবাচক ভাবে গ্রহণ করেননি। বিগত সময়ের পুরুষ নির্বাহী কর্মকর্তাগণ যেভাবে কাপাসিয়ার জনগণকে আপন করে নিয়েছেন এবং নানা প্রতিকূলতাকে দক্ষতার সাথে সবকিছু মোকাবেলা করে সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে সেবা দিচ্ছেন সদ্য পদোন্নতি প্রাপ্ত একজন নারীর পক্ষে তা সম্ভব নয় বলে অনেকেই মনে করতেন। কিন্তু সমালোচকদের সে ধারণা পাল্টে দিয়ে সময়ের পরিক্রমায় ভুল প্রমাণ করে দিয়েছেন।

ইতোপূর্বে যারা এ দায়িত্ব পালন করে গেছেন তাদের প্রতি সম্মান রেখেই সাধারন মানুষ বলছেন বর্তমানে যিনি আছেন তিনি মহিলা হয়ে ও আগে যারা ছিলেন তাদের চেয়ে ভাল ও দক্ষতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের মুখে শুনা যায় মধ্যেই কাপাসিয়ার জনগণের কাছে তিনি অত্যন্ত প্রিয়ভাজন হয়ে উঠেছেন। জনপ্রিয়তায় শীর্ষে অবস্থান করছেন রাজনৈতিক নেতাদের টপকিয়ে এগিয়ে গেছেন অনেক আগেই। নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা.ইসমত আরা তার নিয়মিত দাপ্তরিক কাজের বাহিরে কাপাসিয়ার সার্বিক উন্নয়ন ও গণমানুষের কল্যাণে দিন রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

বাল্যবিয়ে, ইভটিজিং, মাদক, অবৈধ বালু উত্তোলন, পরিবেশ দূষণ, ভেজাল পণ্য বিক্রি ও সরকারি চাল আত্মসাৎসহ নানা অপরাধ মূলক কর্মকান্ড প্রতিরোধে আপোষহীন ভূমিকা পালন করে তিনি প্রসংশিত হয়েছেন। গভীর রাতে বাল্য বিবাহ বন্ধ করতে ছুটে যান উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে তিনি তাৎক্ষনিক ভাবে সমস্যা সমাধান করে থাকেন আপসহীন এই কর্মকর্তা। অনেক সময় তিনি সাথে পুলিশ ও নিয়ে যাননা। তাঁর মধ্যে নেই অহংকারবোধ নিতান্তই সাদামাটা আচরন ও চলাফেরা। মানুষকে মূল্যায়ন করতে জানেন তিনি। করোনা ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ রোধে উপজেলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত চষে বেড়িয়েছেন তিনি। অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তিনি লকডাউন বাস্তবায়নে রাতদিন পরিশ্রম করছেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছেন তিনি ।

পাশাপাশি করোনায় আক্রান্তদের বেসরকারি পল্লী মডিউল কমিউনিটি হাসপাতালে আলাদা চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা করেছেন। লকডাউন শিথিল করা হলে হাট বাজারে, গণ পরিবহনে ও রাস্তাঘাটে সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্য বিধি কঠোর ভাবে বাস্তবায়নের জন্য তিনি নিয়মিত সরেজমিনে তদারকি করছেন এবং কোনো রকম অনিয়ম হলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের দন্ড ও প্রদান করছেন। মানুষ মানুষের জন্য এ বিশ্বাসকে বুকে ধারণ করে কাপাসিয়ার জনগনের জন্য দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন নিরলস ভাবে। অসহায়, হতদরিদ্র, ছিন্নমূল এবং বেদে সম্প্রদায়সহ উপজেলার সাধারন মানুষের সেবায় হাত বাড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তার কোন ক্লান্তি ও বিরক্তিবোধ নেই। তার মোবাইল নাম্বারটি সাধারন মানুষের কাছে দেয়া আছে। যখনই ফোনে কোন দুর্নীত ও অনিয়ম, বাল্যবিবাহ,অবৈধ বালি উত্তোলনসহ যে কোন বিষয়ের খবর পেলেই ছুটে যান তিনি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাঃ ইসমত আরা দৈনিক আজকের আলোকিত সকালকে বলেন, প্রজাতন্ত্রের একজন চাকুরের প্রথম কাজই হলো মানুষের সেবা প্রদান করা। আর সেটা নানা ভাবেই দেওয়া সম্ভব। শুধু সদিচ্ছাটা থাকলেই হয়। তিনি বলেন মানুষের সেবা করতে পারছি এটা ভাবতেই আমার খুব ভালো লাগে। তখন আর স্বামী সন্তানের কথা ও মনে থাকে না। করোনাভাইরাসে নির্ঘাত মৃত্যু জেনেও তিনি নিজের ৫ বছর বয়সী ছেলেকে মা ও কাজের লোকের কাছে রেখে স্বীয় দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন ।

তিনি বলেন, আমি নিজেকে ভাগ্যবান ও গর্ভিত এ কারনে যে, বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে প্রথম কর্মস্থল ছিল জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মভূমিতে। আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে প্রথম কর্মস্থল হলো মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী বঙ্গতাজ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদের জন্মভূমিতে। এটা আমার জন্য পরম সৌভাগ্যের বিষয়।

তিনি আরো বলেন, তাকে সার্বিক ভাবে সহযোগিতা, পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা দিয়ে আসছেন গাজীপুর-৪ কাপাসিয়ার সংসদ সদস্য বঙ্গতাজ কন্যা সিমিন হোসেন রিমি। তাঁর সার্বক্ষনিক পরামর্শে আমি উপজেলার সকল উন্নয়ন মূলক কাজ তদারকি সহ কাজ গুলি সম্পর্ন্ন করে থাকি। কাপাসিয়া উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনকে তিনি সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। এবং কাপাসিয়ার সকল উন্নয়ন মূলক কাজ গুলি দক্ষতার সাথে সম্পূর্ন করছেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.