২৪ ঘন্টাই খবর

কুলিয়ারচরে সালুয়া ইউপি নির্বাচনে ফের আ.লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ইউসুফ মিয়া

কুলিয়ারচরে সালুয়া ইউপি নির্বাচনে ফের আ.লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ইউসুফ মিয়

 

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ

 

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার সালুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. ইউসুফ মিয়া ফের আসন্ন ৬নং সালুয়া ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার আশায় ইতোমধ্যে মাঠে নেমে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। তিনি এর আগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়ে ২০১৬ সনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেন। কিন্তু দল থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় তিনি দূর্ভাগ্যের কারণে নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারেননি।

 

জানা যায়, মো. ইউসুফ মিয়া ১৯৬২ ইং সনের ৮ জুন সালুয়া ইউনিয়নের মধ্য সালুয়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম মো. জুলমত আলী ছিলেন এলাকার একজন সনামধন্য ব্যক্তি। তিনি ২০২০ সালে স্থানীয় এমাদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে (বাউবি) এসএসসি পাশ করেন। তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে এলাকায় পরিচিত ।

 

ছাত্র জীবনের এক পর্যায়ে ১৯৭০ সনে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক নির্বাচনে এস বি জামান ভাই ও জিল্লু ভাই, নৌকা মার্কায় ভোট চাই মিছিলের মাধ্যমে রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৭৪ সন থেকে ১৯৮৯ সন পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সালুয়া ইউনিয়ন শাখার সাথে সক্রিয় ভাবে জড়িত ছিলেন। ১৯৮৬ সনে সালুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মো. মজিদ মেম্বারের নেতৃত্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯০ সন থেকে ১৯৯৫ সন পর্যন্ত সালুয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাথে সক্রিয় ভাবে জড়িত ছিলেন। ১৯৯৬ সন থেকে ১৯৯৮ সন পর্যন্ত তিনি প্রবাসে ছিলেন। ১৯৯৯ সন থেকে ২০০২ সন পর্যন্ত তিনি সালুয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৩ সন হইতে ২০১১ সন পর্যন্ত সালুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ওই সনে তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় সমর্থনে সালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেন। ২০০৪ সনে চারদলীয় ঐক্য জোট সরকার কর্তৃক জননেত্রী শেখ হাসিনা ও তৎকালীন সভানেত্রী আইভি রহমানের উপর গ্রেনেড হামলা ও আইভি রহমানকে হত্যার প্রতিবাদে হরতালের সমর্থনে সালুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ কর্তৃক মিছিলে বিএনপি বাধাঁ দিলে সংঘর্ষের ঘটনায় ১১ টি মামলার আসামী হয়ে নির্যাতিত হন তিনি। ২০১২ সন থেকে এ পর্যন্ত তিনি সালুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে ইউনিয়নের রাস্তা, কালভার্ট, মসজিদ, মন্দির, স্কুল, মাদ্রাসা, ঈদগাহ ও বিভিন্ন সমাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত রয়েছেন। ২০০৮ সন থেকে তিনি স্থানীয় ডুমরাকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২ সন থেকে ২০২০ সন পর্যন্ত তিনি স্থানীয় এমাদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি সালুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ছাড়াও সালুয়া ফাজিল মাদ্রাসা গভর্নিং বডির সদস্য ও ২০০৭ সন হতে এ পর্যন্ত সালুয়া ঈদগাহ পরিচানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সফলতার সহিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

 

জানা যায়, উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত ৬নং সালুয়া ইউনিয়ন। ইউনিয়নটি স্বাধীনতার পূর্ব থেকেই আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সারা উপজেলা ব্যাপী ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা হিসেবে মো. ইউসুফ মিয়ার রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি। দলমত নির্বিশেষে জনপ্রিয়তায় শীর্ষে রয়েছে তার অবস্থান।

 

ছাত্রজীবন থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষহীন এই নেতা সাধারণ জনগনের হৃদয়ের মনিকোঠায় ঠাঁই করে নিয়েছেন স্ব-মহিমায়। তিনি বিগত দিনে পর পর দুইবার সালুয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ব্যানারে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করে একটি চিহ্নিত কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়ে পরাজিত হয়েছেন।

 

এ ব্যাপারে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের একাধিক নেতা-কর্মীর দাবী, তিনি কখনোই ভোটে পরাজিত হতেন না, বা হওয়ার কথাও না, তাকে ষড়যন্ত্র করে পরাজিত করা হয়েছে। তাই তারা মনে করেন আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সকল সীমারেখা উপেক্ষা করে জনপ্রিয় নেতা ইউসুফ মিয়াকে আবারও আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন দেওয়া উচিৎ। কেননা, উপজেলা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা-কর্মীরাও মনে করেন, সালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদটি মো. ইউসুফ মিয়াই প্রাপ্য। কারণ, তিনি আওয়ামী লীগের একজন সফল সভাপতি হিসেবে এ ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যাবস্থা থেকে শুরু করে শিক্ষা, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও ডিজিটাল ইউনিয়ন গড়ার প্রচেষ্টা সহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই রূপকল্পে দেয়া লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশী সাফল্য অর্জন করেছেন। কোভিড-১৯ করোনার শুরু থেকে মানব সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করে সরকারের পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে জনগণের মাঝে ত্রাণ, মাস্ক ও শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণ করে এলাকায় গরীব দুঃখীদের মাঝে অনেকটা প্রিয় হয়েছেন। যার ফলে সালুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা মনে করেন ইউসুফ মিয়া আবারও দলীয় মনোনয়ন পেলে কোন অপশক্তি বা ষড়যন্ত্র তার বিজয় ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।

 

তাই কুলিয়ারচর উপজেলা আওয়ামী লীগ তথা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় সভানেত্রী ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে ইউসুফ মিয়ার কর্মী, ভক্ত ও সমর্থকদের দাবী সার্বিক দিক বিবেচনায় আসন্ন সালুয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আবারও তাকে দলীয় মনোনয়ন দিয়ে নেতাকর্মীদের দাবীকে মূল্যায়ন করা হোক।

 

আসন্ন সালুয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী মো. ইউসুফ মিয়া মানব সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিতে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে সকলের দোয়া ও সমর্থন কামনা করে বলেন, এ ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসাবে গড়তে এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করাসহ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য বাস্তবায়নে দলের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকবো। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আবারও আমি ৬নং সালুয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়ে অংশগ্রহণ করে ইনশাল্লাহ বিজয়ী হবো।

Leave A Reply

Your email address will not be published.