২৪ ঘন্টাই খবর

মুদ্রাপাচার প্রতিরোধে আরো কঠোর করা হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা আইন

আমদানি-রফতানির আড়ালে প্রতি বছরই এদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাচার হয়ে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে মুদ্রা পাচার প্রতিরোধে আরো কঠোর করা হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা আইন। ওই লক্ষ্যে ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। যা পরিপালনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সব ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীকে অবহিত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৪৭-এর ২৩(১) ধারায় বর্ণিত শাস্তিযোগ্য অপরাধসমূহ প্রজ্ঞাপন জারির (১০ মার্চ) দিন থেকে আগামী ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমলযোগ্য করা হবে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমদানি-রফতানির আড়ালে মুদ্রাপাচারকারীদের আদালতের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে পারবে। একই সাথে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণও আরো কঠোর হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৪৭-এর ২৩(১) ধারায় বলা হয়েছে, যে কেউ যদি এ আইনের কোনো ধারা বা এ আইনের কোনো বিধি বা এ আইনের কোনো নির্দেশনা লঙ্ঘন করে বা লঙ্ঘনে সহায়তা করে, তবে আইনে যা-ই থাকুক না কেন, অপরাধীকে সর্বোচ্চ ৭ বছরের জেলসহ জরিমানা করা হবে। একই আইনের ২৩(২) ধারায় বলা হয়েছে, এ আইনের অধীনে সরকার সময়ে সময়ে গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা এ আইনে সংঘটিত অপরাধগুলোকে আমলযোগ্য করবে। এতোদিন ২৩(১) ধারায় সংঘটিত অপরাধগুলোকে গেজেট জারির মাধ্যমে আমলযোগ্য না করায় আইনের দুর্বলতার কারণে অপরাধীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। অথচ দেশে পণ্য আমদানির আড়ালে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অব্যাহতভাবে বিদেশে পাচার হচ্ছে। আবার বিদেশে পণ্য রফতানির প্রচুর অর্থও দেশে আসছে না। এ নিয়ে বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৪৭-এর আওতায় মামলাও হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ওই সংক্রান্ত ১০ থেকে ১২ হাজার মামলা দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু আইনি দুর্বলতার কারণে তা নিষ্পত্তি হচ্ছে না। এ ধরনের মামলা আদালত আমলে নিতেও অসম্মতি জানাচ্ছেন।
সূত্র জানায়, মুদ্রা পাচার আইনের মামলা যথাসময়ে শেষ না হওয়ায় মামলার দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে আইনজীবীর মতামত নিয়ে সমস্যা সমাধান করতে বাংলাদেশ ব্যাংক গত নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে তিন দফা চিঠি দেয়। মূল উদ্দেশ্য ছিল, এ বিষয়ে আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় সংঘটিত অপরাধগুলোকে আমলযোগ্য করতে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা। বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠি অনুযায়ী করণীয় নির্ধারণে সচিবালয়ে গত ১৭ জানুয়ারিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংক, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), আইন ও বিচার বিভাগ, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ওই বৈঠকেই এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারির বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করা হয়। তারই আলোকে গত ১০ মার্চ অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব  রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেন। সেটি পরিপালনের জন্য সার্কুলার আকারে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের অবহিত করা হয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, এতো দিন প্রজ্ঞাপন জারি না করায় বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৪৭ এর ২৩(১) ধারা অনুযায়ী সংগঠিত অপরাধগুলোকে আমলযোগ্য করা হয়নি। এখন ওই সংক্রান্ত গেজেট জারি করায় আমদানি-রফতানির আড়ালে যারাই মুদ্রা পাচার করবে তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে সহজ হবে। তাছাড়া আইনের প্রয়োগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণও আরো কঠোর হবে। প্রজ্ঞাপনে এ আইনের আওতায় শাস্তিযাগ্য অপরাধগুলোকে আগামী ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমলযোগ্য করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, আইনের প্রয়োগ আরো যথাযথ করতে বিদ্যমান আইন হালনাগাদ করতে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় ও ব্যবস্থাপনা আইন নতুনভাবে বাংলায় প্রণয়ন করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে আগামী বছরের মধ্যে ওই কাজ সম্পন্ন হবে। তা করা হলে ওই আইনের সংঘটিত অপরাধগুলো আপনাআপনিই আমলযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। তাতে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে আরো সহজ হবে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.