২৪ ঘন্টাই খবর

‘শিশুর মতো হাসতে শেখো, দুনিয়ার ভালোবাসা পাবে’ -মুহাম্মদ নাফিউল আযিযুন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিশুদের নিয়ে বলেছিলেন ‘পবিত্র শিশুদের সঙ্গে মিশি মনটাকে একটু হাল্কা করার জন্য’ আজ ১৭ই মার্চ  জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন। জাতীয়ভাবে দিনটি ‘জাতীয় শিশু দিবস ‘ হিসেবে পালন করা হয়। শিশুদের প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসার কারণেই তাঁরই সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার প্রথম মেয়াদে (১৯৯৬-২০০১) খ শ্রেণীভুক্ত দিবস হিসেবে ১৭ই মার্চকে ‘জাতীয় শিশু দিবস’ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে দিনটিকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।
শিশুদের প্রতি বঙ্গবন্ধুর দরদ ছিল অপরিসীম। জাতির পিতা তাঁর নিজের জন্মদিন পালন করতেন না। তাঁর জন্মদিনটিতে তিনি শিশুদের সঙ্গে কাটাতেই পছন্দ করতেন। ওইদিন শিশুরা দল বেঁধে তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে যেত। তাই তাঁর জন্মদিনকে শিশুদের জন্য উৎসর্গ করে ‘জাতীয় শিশু দিবস’ ঘোষণা করা হয়।
যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে যখন জনগণের তিনবেলা খাবারের ব্যবস্থা করাই ছিল দুরূহ, রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অবস্থাও লাজুক, সেই সময় প্রাথমিক শিক্ষাকে অবৈতনিক করেছিলেন রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭৩ সালে প্রাথমিক শিক্ষাকে অবৈতনিক করে ৩৭ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ করেন তিনি। শিশুদের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৭৪ -এর ২২ জুন ‘শিশু আইন’ প্রণয়ন করেন। বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন  এবং ‘জাতীয় শিশু দিবস’ পালনে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়। তাছাড়াও দিবসটি সারা দেশে নানান ভাবে  উদযাপিত হয়।  বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আয়োজন করা হয় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার।
বঙ্গবন্ধুর কর্ম ও রাজনৈতিক জীবন অসামান্য গৌরবের। তাঁর এ গৌরবের ইতিহাস থেকে প্রতিটি শিশুর মাঝে চারিত্রিক দৃঢ়তার ভিত্তি গড়ে  উঠুক, এটাই ‘জাতীয় শিশু দিবস ‘ এর মূল প্রতিপাদ্য। সর্বোপরি আজকের শিশুরাই আগামী দিনের নেতৃত্বদানকারী। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে আজকের শিশুকে এদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে লালন করতে হবে। এ দিনে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে শিশুদের জন্য নিরাপদ আবাসভূমিতে পরিণত করার নতুন শপথ নিতে হবে সবার। বঙ্গবন্ধু বলতেন, ‘শিশুর মতো হাসতে শেখো। দুনিয়ার ভালোবাসা পাবে।
তথ্য সূত্র: সাবেক মন্ত্রী  তোফায়েল আহমেদ, সাংস্কৃতিক কর্মী লাকী ইনাম চেয়ারম্যান, শিশু একাডেমীর পরিচালক আনজীর লিটন।
লেখক : মুহাম্মদ নাফিউল আযিযুন,
সপ্তম শ্রেণী, ফাউন্ডেশন স্কুল, লালমাটিয়া, ঢাকা ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.