২৪ ঘন্টাই খবর

ইছামতি নদীর বুকে হাঁটছে মানুষ !

সাখাওয়াত হোসেন মানিক :
মিরকাদিমের ঐতিহ্যবাহী নদী ইছামতি। এই নদীর বুকে শত শত জাহাজ মালামাল নিয়েদূর দূরান্তে ছুটে যেতো। মিরকাদিমে রয়েছে কমলাঘাট বন্দর। এই বন্দরকে বলা হতো দ্বিতীয় কলিকাতা। সারাদেশ দেশে ব্যবসায়ীরা আসতো এখানে বানিজ্য করতে। নদী পথে নাব্যতা সংকটের কারনে বহু আগে থেকেই মালবাহী জাহাজ আসা যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। সংকীর্ন হয়ে আসতে থাকে নদীর অস্থিত্ব। দখল দূষণে ইছামতি হারিয়ে ফেলে তার চিরচেনা রূপ। নদীর বেশীরভাগ অংশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় ট্রলার ছাড়া অন্যকিছুই চলাচল করতে পারছেনা অবশিষ্ট নদীর অংশে। উজান থেকে আসা পলি জমে নদীটি হারিয়েছে তার পূরানো ঐতিহ্য। বর্তমানে পলি জমা নদীর বুকে পায়ে হেঁটেই চলাচল করছে মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, ইছামতি নদীকে ঘিরেই পাকিস্তান আমল থেকেকমলাঘাট বন্দরে বানিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি অর্জন করে। বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা , পার্শবর্তী দেশ ভারত , পাকিস্তান, নেপালসহ বিভিন্ন দেশ থেকে সওদাগররা এসে পন্য কিনে নিয়ে যেতো। বন্দর থেকে চাল, ডাল, তেল, মরিচ, তিল, সরিষাসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সকল পন্যই এখান থেকে পাইকারী হিসেবে কিনে নিয়ে যেতো সওদাগররা। ঘাটে বড় বড় জাহাজ পণ্য নিয়ে এসে নোঙ্গর করিত। ভারত থেকে ব্যবসায়ীরা বেশী আসতো। একটা সময়ে এটাকে দ্বিতীয় কলিকাতার বানিজ্যিক কেন্দ্র বলা হতো। ১৯৫২ সালের পরবর্তী সময়ে বেশ জমজমাট ছিলো কমলাঘাট বন্দর। পাশাপাশি নদীর বুকে চলাচল করিত মালবাহী বড় বড় জাহাজ। পাশাপাশি এই নদী দিয়ে বেতকা, তালতলা, বালিগাঁও , ডহরী হয়ে লৌহজংয়ের লোকজন লঞ্চ দিয়ে ঢাকা চলাচল করিত। তৎকালীন সময়ে তালতলা হতে রাজধানী ঢাকার সদরঘাটে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিলো লঞ্চ সার্ভিস। নদীটির সাথে লৌহজং উপজেলার পদ্মা নদীর সাথে সংযোগ থাকায় বছরের পর বছর বালু এসে নদীটি ভরাট হয়ে যায়। একটা সময়ে খালের মত হয়ে যায় তালতলা, বালিগাঁও এবং বেতকা এলাকায়। এই নদীটাতে ছোট বড় লঞ্চ যাত্রী নিয়ে দিনভর ছুটে চলতো। নাব্যতা সংকটের কারনে বেশ কয়েক বছর ধরে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে। ধলেশ্বরী নদীর মোহনায় চর পড়ে আস্তে আস্তে নদীটার গতিপথ সংকীর্ন করে ফেলে। পলি জমার কারনে মিরকাদিম লঞ্চঘাট এলাকায় নদীটির ৬০ শতাংশ জায়গা এখন ফসলি জমিতে পরিনত হয়েছে। খনন না করা হলে অবশিষ্ট নদীর অংশটুকুও পলিজমে ভরাট হয়ে যাবে বলেও জানান স্থানীয়রা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পলিজমা ইছামতি নদীর উপর দিয়ে লোকজন হেঁটে গিয়ে খেয়া নৌকায় ওঠানামা করছে। নদীটির অবশিষ্ট অংশ দেখলে মনে হবে এটি একটি খাল। নদীটির ভরাট হয়ে যাওয়া অংশে গবাদি পশুর অবাদ বিচরন। ধলেশ্বরী নদীর মোহনায় ড্রেজিং করে নদীটি মিরকাদিম লঞ্চঘাট এলাকা পর্যন্ত সচল করার চেষ্টা করছে বিআইডাব্লিউটিএর একটি ড্রেজার। পলিজমা ভরাট হওয়া অংশ পড়ে আছে ফসলি জমির মতো।

স্থানীয় মুরুব্বি আবুল কাশেম জানান, নদীটা দিন দিন পলিজমে ফসলি জমি হয়ে যাচ্ছে। নদীটাতে খনন কাজ না করায় নাব্যতা হারাচ্ছে। শুধু মিরকাদিম এলাকায় খনন করলে হবেনা। এই নদীটার প্রান ফিরাতে লৌহজং উপজেলার ডহরী, টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বালিগাঁও, বেতকা, তালতলা এবং কমলাঘাট বন্দর পর্যন্ত প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত ডহুরি খালটি খনন করতে হবে। কারন এই ডহুরি খাল দিয়েই পদ্মার বালু এসে নদীটা আস্তে আস্তে ভরাট হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, নদীগুলোকে রক্ষা করার জন্য কার্যকরীউদ্যোগ নিতে হবে সরকারকে। কৃষি প্রধান দেশে নদীর গুরুত্ব অনেক। পলিজমা নদীগুলোকে খনন করে পূর্বের রূপে ফিরিয়ে দিতে হবে। নদী বাঁচাতে বাংলাদেশে নদী রক্ষা কমিশন, জেলা প্রশাসন,বিআইডাব্লিউটিএ, পানি উন্নয়নবোর্ড এবং পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো দ্রুত ব্যবস্থা নিবে, এমনটাই প্রত্যাশা করেছে সচেতন মহল।

Leave A Reply

Your email address will not be published.