২৪ ঘন্টাই খবর

ধীরে ধীরে খুলে যাচ্ছে কাস্টমস ও ভ্যাট ট্রাইব্যুনালের মামলার জট

কাস্টম এক্সাইজ ও ভ্যাট আপীলেট ট্রাইব্যুনালে ক্রমাগত মামলা নিষ্পত্তির সংখ্যা বাড়ছে। ফলে ট্রাইব্যুনালে দীর্ঘদিনের মামলাজট ধীরে ধীরে খুলে যাচ্ছে। কাস্টম এক্সাইজ ও ভ্যাট নিয়ে এনবিআরের সর্বোচ্চ এ ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে মামলার সংখ্যা ৭ হাজারেরও বেশি। আর রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ হচ্ছে ৩ হাজার ৬শ’ কোটি টাকারও বেশি। বাণিজ্যিক পর্যায়ে, সরকারি-বেসরকারী আমদানি, উৎপাদনকারী সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ইত্যাদিতে ভ্যাট এবং শুল্ক করাদি অপরিশোধিত থাকার ঘটনা নিয়ে ৩০ বছরের পুরনো মামলাও রয়েছে। অতীতে ওসব মামলার নিষ্পত্তিতে প্রবল ধীরগতি ছিল। যে কারণে প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পায় মামলার সংখ্যা। এনবিআর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিগত ২০১২ সাল থেকে পুরনো এবং নতুন মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সময়সীমা বেঁধে দেয়া হলেও তাতে তেমন গতি আসছিল না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আপীলেট ট্রাইব্যুনালের ৪টি বেঞ্চ মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে উদ্যোগী হয়েছে। তবে এজলাস ও জনবলের সঙ্কট রয়েছে। ফলে পালা করে প্রতিদিন দুটি বেঞ্চে বিচার কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে সকালে একটি এবং বিকেলে আরেকটি বেঞ্চের কার্যক্রম চলছে। এনবিআরের সদস্য পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা আপীলেটের প্রেসিডেন্টের পদে রয়েছেন। তার সঙ্গে রয়েছেন চারজন কাস্টম কমিশনার ও চারজন জেলা জজ। তাদের সমন্বয়ে রয়েছে ৪টি বেঞ্চ। প্রতি বেঞ্চে একজন কমিশনার ও একজন জেলা জজের সমন্বয়ে ৪টি বেঞ্চ বিচার কাজ সম্পাদনের দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে। এর মধ্যে দ্বৈত কোন বেঞ্চে রায় প্রদানে দ্বিমত সৃষ্টি হলে তা সিঙ্গেল বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়া হয়। আর চূড়ান্ত রায়ের পর সংক্ষুব্ধরা হাইকোর্টে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সূত্র জানায়, ট্রাইব্যুনালে বছরের পর বছর অনিষ্পত্তি হয়ে থাকা মামলা নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। কিন্তু এজলাস ও জনবল সঙ্কটের কারণে ওই কার্যক্রম আরো প্রসারের ক্ষেত্রে কিছুটা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তবে স্থান ও জনবল সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির তৎপরতা চলছে বলে জানা যায়।
সূত্র জানায়, বিগত ২০১২ সালের আগ পর্যন্ত কাস্টম এক্সাইজ ও ভ্যাট আপীলেট ট্রাইব্যুনালে মামলা নিষ্পত্তির কোন সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেয়া ছিল না। ফলে প্রতিনিয়ত মামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। ২০১২ সালে কাস্টমসের মামলার ক্ষেত্রে ৪ বছর এবং ভ্যাটের মামলার ক্ষেত্রে ২ বছরের মধ্যে নিষ্পত্তি করার সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। ফলে নিষ্পত্তির হারে গতি এসেছে। পরিসংখ্যানের তথ্যানুযায়ী ১৯৯৪ সালের পূর্ব থেকে অনিষ্পত্তির মামলা রয়েছে। বর্তমানে নতুন মামলার বিপরীতে অনিষ্পত্তির মামলা অধিক হারে গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে মামলাজট ধীরে ধীরে খুলে যাচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ট্রাইব্যুনালে ২৩২ মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। যার মধ্যে পুরনো রয়েছে ৪১টি। তার আগের বছর একই সময়ে মাত্র ৯২টি মামলার নিষ্পত্তির রেকর্ড রয়েছে। গত জানুয়ারি মাসে এ ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হওয়া মামলার সংখ্যা ২৪৪টি। যার মধ্যে ২৫ থেকে ৩০ বছরের আগের মামলাও রয়েছে।
এদিকে দেশের সকল কাস্টম হাউস ও ভ্যাট কমিশনারেটে যেসব আপীল নিষ্পত্তি হয় তার বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধরা এনবিআরের কাস্টম এক্সাইজ ও ভ্যাট আপীল ট্রাইব্যুনালে আপীল করার বিধান রাখা হয়েছে। সে অনুযায়ী সংক্ষুব্ধরা এ আপীল ট্রাইব্যুনাল হয়ে প্রয়োজনে দেশের উচ্চ আদালত অর্থাৎ হাইকোর্ট থেকে সুপ্রীমকোর্ট পর্যন্ত যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
অন্যদিকে, সরকারের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায়ের মূল প্রতিষ্ঠান জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ সংস্থার অধীনে রাজস্ব আদায়ে মূল ৩টি উইং রয়েছে। সেগুলো হচ্ছে কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়কর বিভাগ। চলতি অর্থবছরে সরকার এনবিআরকে রাজস্ব আয়ের টার্গেট দিয়েছে ৩ লাখ ১ হাজার কোটি টাকা। গত অর্থবছরে রাজস্ব আয় হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা। সরকারের রাজস্ব আয়ের প্রক্রিয়ায় কাস্টম এক্সাইজ ও ভ্যাট আপীলেট ট্রাইব্যুনাল গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.