২৪ ঘন্টাই খবর

সিলেটে ঐতিহ্যবাহী ষাঁড়ের লড়াই

 জানুয়ারি ১৯, ২০২১,

মাঈনুল ইসলাম,সিলেট:

প্রাচীন বাংলার ঐতিহাসিক বিনোদনগুলোর মধ্যে ষাঁড়ের লড়াই অন্যতম। সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় একে বলা হয় ‘ডেখা মাইর’। কালের বিবর্তনে প্রাচীন বাংলার ঐতিহাসিক এই বিনোদন হারিয়ে গেলেও এর ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন সিলেট সদর উপজেলার বলাউড়ার মানুষ। প্রতি বছরের ন্যায় মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) আয়োজন করা হয় এই ষাঁড়ের লড়াই।

বৃহত্তর সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় অর্ধশতাধিক ষাঁড়ের মালিক তাদের লড়াকু ষাঁড় নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারী অর্ধশতাধিক ষাঁড়ের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয় ব্লাক ডায়মন্ড নামক ষাঁড়। তার কাছে পরাজিত হয় আমির বাদশাহ নামক ষাঁড়।

মঙ্গলবার সিলেট সদর উপজেলার সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের পার্শ্ববর্তী বলাউড়া গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, তীক্ষ্ণধার শিং দিয়ে একটি ষাঁড় গুতো বসিয়ে দিলো প্রতিদ্বন্দ্বি আরেকটি ষাঁড়ের গলায়। গুতো খেয়ে টালমাটাল ষাঁড়টির গলা দিয়ে তখন রক্ত বেরুচ্ছে। আর তখনই ষাঁড় দুটোকে ঘিরে চারদিকে গোল হয়ে দাঁড়ানো হাজারো মানুষ মেতে উঠলো উৎসবে। তালি দিয়ে, চিৎকার করে উৎসাহ জোগালো গুতো দেওয়া ষাঁড়টিকে।

লড়াইয়ে অংশ নিতে সকালেই দূর দুরান্ত এলাকা থেকে নিজেদের ষাঁড় নিয়ে হাজির হন সবাই। বিরাট আকৃতির একেকটা ষাঁড়। কোনোটির গলায় কাগজের ফুলের মালা। কোনটির পেটে লাল কাপড় বাঁধা। দিনভর চলা এ লড়াই দেখতে জড়ো হন আশপাশের গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।

সুনামগঞ্জের ছাতক থেকে লড়াইয়ে নিজের লড়াকু ষাঁড় নিয়ে এসেছেন বারেক মিয়া। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে লড়াইয়ে অংশ নিতে তিনি এই ষাঁড় নিয়ে যান। কেবল লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি এই ষাঁড়কে বিশেষভাবে লালন পালন করেছেন। এর খাওয়া-দাওয়ার আলাদা যত্ন নেন। লড়াইয়ের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেন।

আয়োজক কমিটি জানায়, এবারে মোট ৫০টি লড়াইয়ে একশ’টি ষাঁড় অংশ নেয়। প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ হওয়া ব্লাক ডায়মন্ড নামক ষাঁড়ের মালিক জিতে নেন ১’শ সিসি মোটরসাইকেল। এছাড়া অংশগ্রহণকারী সকলকেই পুরষ্কার প্রদান করা হয়েছে।

www.bbcsangbad24.com

Leave A Reply

Your email address will not be published.