২৪ ঘন্টাই খবর

কালিদাসের অস্তিত্ব বিলীনের পথে

সাখাওয়াত হোসেন মানিক : নদীর সাথে মানুষের সম্পর্ক চিরকালের। জীবন জীবিকা ও সভ্যতার অগ্রগতি ও ঘটেছে নদীর তীরে।সিন্ধু নদীর তীরে সিন্ধু সভ্যতা। নীল নদের তীরে মিশরীয় সভ্যতা। ডনজ্যানুয়েবের তীরে রুশ সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। বাংলাদেশের ও প্রায় শহর- নগর বানিজ্য কেন্দ্র বিভিন্ন নদীর তীরে গড়ে ওঠে। রাজধানি ঢাকা বুড়িগঙ্গা। নারায়নগঞ্জের শীতলক্ষা। চট্রগ্রাম কর্ণফুলি নদীর তীরে গড়ে উঠে। বাংলাদেশের সঙ্গে নদীর সম্পর্ক নাড়ির। নদীমাতৃক বাংলাদেশে ছোট বড় ২৩০ টি নদ নদী রয়েছে। আমাদের দেশের জিবন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে এসব নদ নদীর ভুমিকা অপরিসীম। বাংলাদেশের যেসব এলাকায় সড়ক ও রেলপথ নেই, সেসব অঞ্চলে নদী পথই যোগাযোগের ও পরিবহনের একমাত্র মাধ্যম। কিন্তু মানুষ, প্রকৃতি, ও ভারতের আচরন নদী গুলোর জন্য হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে। আজ দেশের বেশির ভাগ নদ নদী এখন মৃত – অর্ধমৃত। নদী দখল, দুষন ও নজরদারির অভাবসহ নানা কারনে নদীমাতৃক দেশের আজ করুন অবস্থা। এমনি এক ভয়াবহ পরিস্থিতির স্বীকার মুন্সীগঞ্জের ধলেশ্বরীর শাখা কালিদাস নদী। বেশ কয়েকটা নদী যেমন শীতলক্ষা, মেঘনা এবং পদ্মায় সংযোোগ করেছে এই নদী। সেই সাথে ধলেশ্বরী নদীকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে কতগুলো উপ/ শাখা নদী। কালিদাস তার অন্যতম। এক সময় ধলেশ্বরীর শাখা কালিদাস নদীতে অথৈ পানি এবং তীব্র স্রোতের বেগ থাকলে ও আজ প্রায় অর্ধমৃত। নদী দখল, দুষন ও নজরদারির অভাবের কারনে অস্তিত্ব হারিয়েছে কালিদাসের। এক সময় কালিদাসের উপর দিয়ে নারায়নগঞ্জ থেকে আসা যাত্রীবাহি লঞ্চ, বাল্কহেড, ট্রলার, ছোট ছোট মাছ ধরার নৌকাসহ বিভিন্ন নৌযান এই রুট ব্যবহার করে কালিপুরা, বেলতলি, জাজিরা, ষাটনল, মতলব, চাঁদপুর সহ পদ্মায় মিলিত হওয়া যেত। তখন নদীর প্রশস্বতা ও গভিরতা ছিল অনেক। সেই সাথে নদীর পানি খাওয়া ও গোসলের কাজে ব্যবহার করা হলে ও এখন তা অনেক দুষ্কর ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। নদীকে কেন্দ্র করে হাটলক্ষিগঞ্জ, মোল্লাপাড়া, ফরায়েজি বাড়ি ঘাট, যোগিনীঘাট পর্যন্ত গড়ে ওঠেছে অবৈধ স্থাপনা ও ব্যবসা বানিজ্য। ইট, বালু,সিমেন্ট, রড সহ নানা ধরনের মালামাল এই শাখা নদী দিয়েই আনা নেওয়া করতো এখানকার ব্যবসায়ীরা। যা এখনো করে আসছে। কালের পরিক্রমায় অস্তিত্ব সংকট, প্রশস্বতা হ্রাস পাওয়া,গভিরতা কমে যাওয়ায় এবং অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠার কারনে আজ কালিদাসের অস্তিত্ব চরম সংকটে। এখন আর এখানে কোন প্রকার নৌযান চলাচল করতে দেখা যায় না। ব্যবসায়িদের ব্যবসার মালামাল আনা নেওয়ায় ও শান্তি নেই। গভিরতা না থাকায় ইট, পাথর, বালু, সিমেন্ট, বোঝাই করা নৌযানগুলো ওখানেই নোঙ্গর করে বসে থাকে ঘন্টার পর ঘন্টা। অপেক্ষা প্রহর গুনে কখন জোয়ার আসবে। লক্ষ করলে দেখা যায়, নদির দুপাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনার জন্য নদী অনেকটাই সংকীর্ন হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে জানতে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তার সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করে ও তাকে পাওয়া যায় নি। মুন্সীগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক দ্বীপক কুমার রায় বলেন, এ ব্যাপারে আমরা যথেষ্ট তৎপর। পানি উন্নয়ন বোর্ড উদ্ধোগ নিলে আমরা ব্যবস্থা নিব। অবৈধ দখল উচ্ছেদ যেন খুব দ্রতই বাস্তবায়ন করা হয় সে ব্যাপারে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো। ধলেশ্বরীর কালিদাস নদীর অস্তিত্ব ফিরিয়ে আনতে এখানে দুপাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ সহ গভিরতার জন্য দুপাশের মাটি খনন ও ড্রেজিং করে এর স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে দাবি করছেন স্থানীয় জনসাধারন ও সুশিল সমাজ।

Leave A Reply

Your email address will not be published.