২৪ ঘন্টাই খবর

উত্তরা সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির বার্ষিক বনভোজন

বীর মুক্তিযোদ্ধা এস.এম. তোফাজ্জল হোসেন এর মহানুভবতা

মোঃ আমিনুল হক : রাজধানীর উত্তরখানের মৈনারটেক হোমস গার্ডেন পিকনিক স্পটে গত ৫ মার্চ উত্তরা সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির বার্ষিক বনভোজন-২০২১ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দানবীর বিশিষ্ট সমাজ সেবক বীর মুক্তিযোদ্ধা সাপ্তাহিক উত্তরা বাণীর সম্পাদক ও প্রকাশক এবং সংগঠনের সভাপতি, সাবেক দক্ষিনখান ইউপি চেয়ারম্যান, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামীলীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্জ এস.এম. তোফাজ্জল হোসেন এর প্রচেষ্টায় এবং আর্থিক সহযোগীতায় উত্তরখানে প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশে গড়া হোমস্ গার্ডেন পিকনিক স্পটে প্রায় দুইশতাধিক সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে আনন্দঘন পরিবেশে মিলনমেলায় বনভোজন অনুষ্ঠিত হয়।
আলোকিত মানুষেরা বনে জংগলে গিয়েও মানবতা এবং মানুষের কল্যাণ নিয়ে ভাবতে দেখা যায়। দুপুরের খাবারের পর সল্প সময়ের জন্য আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রথমেই মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জনাব এইচ টি ইমামের মৃত্যুতে এক মিনিট দাড়িয়ে নিরাবতা পালন করে সন্মান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্জ এস.এম. তোফাজ্জল হোসেন তার বক্তব্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া না দিলে যেমন দেশ স্বাধীন হতো না ঠিক তেমনি তার সূযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব না থাকলে দেশের এত উন্নয়নও সম্ভব হত না। তিনি অগ্নীঝড়া স্বাধীনতার মাসে মহান মুক্তিযুদ্ধের কথা স্মরণ করে বলেন, আমার বড় ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা এস.এম. মোজাম্মেল হক আমাকে সহ মোট ৭১জনকে ভারতে নিয়ে যায় মুক্তিযুদ্ধের ট্রেনিংয়ের জন্য। আমার বড় ভাই একজন সফল বীর মুক্তিযোদ্ধা এস.এম. মোজাম্মেল হক এর নেতৃত্ত্বে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছি। জীবনকে উৎসর্গ করার ব্রত নিয়েই বাড়ী থেকে বেড় হই। সান্তনা ছিল দেশের জন্য শহীদ হলে আমরা গর্বীত হবো। সেদিন দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি বলেই আজ আমরা মুক্ত বাতাসে নিশ^াস নেয়ার অধিকার পেয়েছি। সুতারাং যে কোন মুল্যেই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির কাছ থেকে এ দেশকে মুক্ত রাখবো ইনশাহআল্লাহ। স্বাধীনতার মাসে এবং ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের স্বাধীনতার চুড়ান্ত আহবানের দিনে মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা না বল্লেই নয়,তিনি ছিলেন ক্ষনজন্মা পুরুষ। এ ধরনের নেতার আর্ভিভাব হয় হাজার বছর পর। স্বাধীনতার এ স্বপ্ন দ্রষ্টা সারা বাংলার মানুষকে তার ভালবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করে এক পরিবারে রূপান্তর করে। কেবল জাতির জনকেরই নির্দেশে এক পতাকা তলে সমবেত হয়ে মহান স্বধীনতার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ি এবং কাংক্ষিত বিজয় ছিনিয়ে আনি। বাঙালি জাতি চিরদির এই মহান নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাবে এবং কৃতজ্ঞ থাকবে।
তিনি আরো বলেন, সাংবাদিকরা জাতির বিবেক তাই সততা নিয়ে কাজ করার আহবান জানান। তিনি উত্তরা সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির সদস্যদের আপদকালীন সময়ে সাহায্য ও সহযোগীতার জন্য নিজস্ব আয় থেকে এক লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করার ঘোষনা দেন। তাছাড়াও সংগঠনের সাংবাদিকদের বিপদে আপদে পাশে থাকার কথা ব্যক্ত করেন। কিশোর বয়স থেকেই মানবতার ফেরিওয়ালা ও সমাজ সংষ্কারক হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্জ এস.এম. তোফাজ্জল হোসেন। সমাজের রন্ধে রন্ধে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে হাইস্কুল ,কলেজ, বিশ^বিদ্যালয়,মসজিদ ,মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। মানবতার সেবা করাই যার নেশা। দক্ষিনখান আদর্শ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক একজন সফল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইতোপূর্বে দক্ষিনখান ইউনিয়নের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকার রাস্তা গুলো সরু গলি হিসেবেই পরিচিত ছিল। প্রাইভেট কার, এম্বুলেন্স বা বাড়ী তৈরী করার জন্য ট্রাকে মালামাল আনা নেয়া ছিল দুঃস্বপ্ন। তিনি চেয়ারম্যান থাকা অব¯া’ায় এলাকার অনেক রাস্তাই শত বাধা উপেক্ষা করে প্রশস্ত করেন যার সুফল এখন দক্ষিনখান ইউনিয়নের আপাময় জনসাধারণ ভোগ করছেন।
তিনি বলেন আমি কোন পদে থাকি আর না থাকি তাতে কিছু যায় আসে না দেশের ও এলাকার মানুষের উন্নয়নে আমি যতদিন বেচেঁ থাকবো কাজ করে যাবো। সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট বৃহত্তর উত্তরা এলাকার কিছু সমস্যা সমাধানের জন্য দাবী জানিয়েছেন।
দাবীগুলো হলো :
১। কোডবাড়ি রেলগেট এর ওপর ফ্লাই ওভার নির্মান ২। আাজমপুর রেলগেট এর ওপর ফ্লাই ওভার নির্মান ৩। সেকান্দর মার্কেট (কসাইবাড়ি) রেলগেট এর ওপর ফ্লাই ওভার নির্মান ৪। বিমানবন্দর রেলগেট এর ওপর ফ্লাই ওভার নির্মান এবং আন্ডারপাস নির্মান ৫। কাওলার রেলগেট এর ওপর ফ্লাইওভার নির্মান ৬। খিলক্ষেত রেলগেট এর ওপর ফ্লাই ওভার নির্মান এবং আন্ডারপাস নির্মান ৭। কাঁচকুড়া হতে ভাতুরিয়া বড়কাউ পর্যন্ত বালু নদীতে ব্রীজ নির্মান। ৮। হরিরামপুর, উত্তরখান, দক্ষিনখান এবং ডুমনি ইউনিয়নের রাস্তাঘাট সূয়ারেজ লাইন সংস্কার ও উন্নয়ন।
উল্লেখ্য যে, উপর্যুক্ত রেলগেটের ওপর ফ্লাইওভার, আন্ডারপাস, বালু নদীর ওপর ব্রীজ নির্মান হলে পূর্বাঞ্চলের সাথে যোগাযোগতরাম্বিত হবে ফলে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে এবং কর্মসংস্থানের সৃষ্টিহবে। সে সাথে ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়বে এবং মানবসম্পদ কর্মক্ষমহবে।
যিনি একটি বনভোজনের অনুষ্ঠানে গিয়েও সুনাম সুখ্যাতি কুড়াতে পিছপা হয়নি। তাছাড়া দক্ষিনখান চেয়ারম্যানবাড়ীর ঐতিহ্য রক্ষাকরতে ভবিষ্যতের কর্ণধার তার একমাত্র ছেলে ব্যারিস্টার এস.এম. তারিকুল হাসান বাবুকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করেছেন। লন্ডন থেকে ব্যারিস্টার তৈরি করে এনেছেন। এখন তার ছেলেকেও মানব কল্যাণে কাজ করার অনুপ্রেরণা যুগিয়ে সরেজমিনে পিতার অভিজ্ঞতাটা শিখিয়ে দিচ্ছেন। তার ছেলের শিক্ষা, নম্রতা, ভদ্রতা, আচার আচরণ নিয়ে অত্র এলাকায় ইতোমধ্যেই প্রশংসিত হয়েছেন। বনভোজনে অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ব্যারিষ্টার এস.এম.তারিকুল হাসান বাবু উপস্থিত ছিলেন এবং খুব গোছানো মিষ্টি ভাষায়তার বক্তব্যে মতামত ব্যাক্ত করেন।
বনভোজন অনুষ্ঠানের অমন্তিত অতিথি বিশিস্ট ব্যবসায়ী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপ কমিটির সদস্য ড. মোহাম্মদ এ হোসেন দিপু সাংবাদিকদের কল্যাণ ফান্ডে নিরা নববই হাজার টাকা অনুদান প্রদানের ঘোষনা দেন।। তাছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাবুর রহমান চেীধুরী কল্যাণ ফান্ডে পঞ্চাশ হাজার টাকা অনুদান প্রদানের ঘোষনা দেন।
সাংবাদিকদের এ বনভোজন অনুষ্ঠান সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিভিন্ন পর্বে বিভক্ত হয়ে চলতে থাকে। শত কর্মব্যস্ত সাংবাদিকরা একটু স্বস্তি পেয়ে দুপুরের আগ পর্যন্ত চলে প্রকৃতির নৈসর্গীক অপরূপ সৌন্দর্যকে অলিঙ্গন করার আকুতিতে তাদের পরিবার ও সন্তানদের নিয়ে রির্সোটে কোথাও হারিয়ে যেতে নেই মানা পর্বে। গার্ডেনের দুলনা, শিশুদের বিভিন্ন রাইডার, ফুলের বাগান, গাছের সুনিবির ছায়া, পানির ফুয়ারা সুসজ্জিতভাবে সাজানো চোখে পড়ার মতো ছিল। শহরের ইটের পাজরে লোহার খাচায় বন্ধি জীবন থেকে বেড়িয়ে ক্ষনিকের জন্য হলেও কোমলমতি শিশুদের ছুটো ছুটি আনন্দ উল্লাস রাইডারে ও দুলনায় উঠা এবং খোলামাঠে, বাগানে ঘুরা ফেরার দৃশে^ মনে করিয়ে দেয় রবি ঠাকুরের গানের কথা” আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাশে”।
বিকেলে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ বনভোজনকে যারা শ্রম দিয়ে মেধা দিয়ে অক্লান্ত পরিশ্রম করে স্বার্থক করে তুলেছেন তারা হলেন, উত্তরা সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক দৈনিক প্রথম বেলার সম্পাদক ও প্রকাশক মো: শাহ্ আলম, দৈনিক আজকের আলোকিত সকাল এর সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ মোখলেছুর রহমান মাসুম, ঢাকা টিভির সিইও, শেখ মনিরুজ্জামান জুয়েল, শহিদুল ইসলাম, মিরাজ সিকদার, সাইদুর রহমান সহ আরো অনেকে।
উত্তরা সাংবাদিক কল্যাণ সমিতির সদস্যদের স্ত্রী সন্তান সহ পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন খেলায় অংশ গ্রহন করেন। র‌্যাফেল ড্র, হাড়ি ভাঙ্গা, মিউজিক্যাল চেয়ার, বালটিতে বল নিক্ষেপ, খুদে শিল্পীদের গান পরিবেশন ছিল উল্লেখযোগ্য। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার তুলে দেয়া হয়।

Leave A Reply

Your email address will not be published.