২৪ ঘন্টাই খবর

সাতক্ষীরায় ক্লিনিক মার্কা সাংবাদিকতায় আনিসুররাই সর্বেসর্বা

নিজস্ব সংবাদদাতা : সাতক্ষীরায় সদর হাসপাতালের মুখেই যখন “চায়না বাংলা (সিবি) হাসপাতাল” নামের তথাকথিত ক্লিনিকটি গড়ে ওঠেছিল তখন সাতক্ষীরাবাসী কিছুটা স্বস্তির স্বপ্ন দেখছিলেন। চায়না নামটি দেখে ভাবছিলেন ‘সাধ্যের মধ্যেই সাধ পূরণ’ হবে তাদের। কম খরচে উন্নত চিকিৎসা সুবিধা হয়তো তাদের ভাগ্যে জুটবে। অথচ ভাগ্যের নির্মম পরিহাস হচ্ছে সেই চায়না বংলা (সিবি) হাসপাতালই এখন জেলার সেরা কশাইখানায় পরিনত হয়েছে। সেখানে রোগিদের গলাকাটা থেকে পকেট কাটা সবই চলে উচ্চ রেটে। সেখানে একবার রোগী ভর্তি করলে আর রেহাই নেই। সিবি হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে জায়গা, জমি, ভিটে বাড়ি সব খুইয়ে রাস্তায় বসতে হয়।সাতক্ষীরা শহরে সদর হাসপাতালের মুখেই গড়ে তোলা সিবি হাসপাতাল, এর মালিক আনিসুর রহমান। অল্প শিক্ষিত ভদ্রলোক সুপ্রভাত সাতক্ষীরা নামের একটি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশ করে সাংবাদিকও বনে গেছেন। সেই পত্রিকা তারই ক্লিনিকের প্রত্যেক রোগিকে গলধঃকরণে বাধ্য করা হয়। এ পত্রিকা প্রকাশের পর থেকেই তিনি গলাকাটা বাণিজ্য খ্যাত ক্লিনিক ব্যবসা চালাতে পারছেন বাধাহীন ভাবে। উদ্বেগের ব্যাপার হলো আধা শিক্ষিত আনিসুর রহমানের না আছে ডাক্তারির অভিজ্ঞতা, না আছে সাংবাদিকতার দক্ষতা। মানবিকতা তো আরো আগেই ইটভাটার চুল্লিতে জ্বলে গেছে। অথচ দায়িত্বশীল পেশাদারিত্বের দুটি ক্ষেত্রেই মূল হোতা হয়ে বসে আছেন তিনি। বলিহারি তার চাতুর্যতার! বলিহারি!! পাঁচ যুগেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতায় দাপুটে ঐতিহ্য সাতক্ষীরার। সেখানকার প্রেসক্লাবেরও একটি অংশ নাকি নিয়ন্ত্রণ করছেন এই অপেশাদার ক্লিনিক ব্যবসায়ি। ঢাকার একজন সাংবাদিক বন্ধু তার অসুস্থ বাবাকে চায়না বাংলা হাসপাতাল নামক টাকা হাতানোর কশাইখানায় ভর্তি করে কী যে বিপাকে পড়েছেন তার ইয়োত্তা নেই। পায়ের ক্ষত নিয়ে ভর্তি করা ওই রোগির সিটি স্ক্যান, নাক কান, গলা, বুকের সব পরীক্ষাই করিয়ে ছেড়েছেন তিনি। আনিসুর রহমানের হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের যতো মেশিনপত্র আছে তার সবকিছুর সঙ্গেই রোগির পরিচয় ঘটানো হয়েছে। ১৮ ধরনের পরীক্ষান্তে ৬০ হাজার টাকা বিলও হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে অথচ রোগ নির্ণয় পর্যন্ত করতে পারেননি আনিসুরের ডাক্তার কর্মচারীরা। ফলে দিন দিনই ওই সাংবাদিক পিতার শারিরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে এবং তাকে বাঁচানোর জন্যই সাতক্ষীরার চায়না বাংলা (সিবি) হাসপাতালটি ছেড়ে ঢাকার হাসপাতালে স্থানান্তরে বাধ্য হতে হয়েছে। ঢাকার হাসপাতালে ৬০০ টাকার এক পরীক্ষাতেই রোগির রোগ নির্ণয় হয়েছে, যথাযথ চিকিৎসাও চলছে তার। তাহলে আনিসুরের সিবি হাসপাতাল ১৮টি পরীক্ষা চালিয়েছে কিসের ধান্ধায়?রোগিদের সঙ্গে এ কেমন বর্বরতা? এ কেমন নির্লজ্জ বাণিজ্যিক ফাঁদ? সাংবাদিকদের থেকে সাধারণ মানুষ অনেক বেশি মানবিকতা আশা করেন। সম্পাদক পরিচয় দিয়ে ক্লিনিক বাণিজ্যের নামে বর্বর কশাই হতে কী বিবেকে একটুও বাধে না? ছিঃ, আনিসুর ছিঃ। একজন নিরীহ সাংবাদিককে বাণিজ্যের বলি বানাতে একটুও বুক কাঁপেনি? আপনার তত্বাবধানে কেমন পত্রিকা হতে পারে, সেখানে সাংবাদিকরা আদৌ পেশাজীবী হয়ে উঠতে পারে কি না, সর্বোপরি আপনার তত্বাবধানকৃত গ্রæপ সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের নিয়ন্ত্রক হলে জেলাবাসী যে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থায় পড়বে তা কী বলার অপেক্ষা রাখে? দুর্ভাগ্যের জনবসতিতে দুর্ভাগা সাংবাদিকতা! সেখানে অনৈতিক বাণিজ্য আর তদবিরবাজিই গিলে খাচ্ছে সবকিছু। একদা এই সাতক্ষীরারই সংসদ সদস্য আফম রুহুল হক আওয়ামীলীগ সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন। তার আ¤্রয়ে প্রশ্রয়েই ঠিকাদার মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠু গোটা স্বাস্থ্য সেক্টরকেই গিলে খেয়েছিল। আর সাতক্ষীরায় আফম রুহুল হকের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে বিএনপি জামায়াতের যারা ছিলেন তারাই সাতক্ষীরায় পাইকারিভাবে ক্লিনিক, হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স হাতিয়ে নিয়েছেন। মূলত চিকিৎসা সেবার নামে গলাকাটা বাণিজ্যের আড়ালে অনেকেই নিজেদের পূণর্বাসন করেছেন, পরবর্তীতে সুযোগ সুবিধা পেয়েই আওয়ামীলীগে অনুপ্রবেশ করে দন্ডমুন্ডের কর্তায় পরিনত হয়েছেন। পাইকারি সে অনুমোদনের সুবাদেই সাতক্ষীরার অলিগলি, গ্রামের মোড়েও ব্যঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠে হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার। সাধারণ মানুষজন সেসব সেন্টারে সর্বস্ব খুইয়ে তার খেসারত দিচ্ছে বৈ কি!

Leave A Reply

Your email address will not be published.