২৪ ঘন্টাই খবর

পুলিশের সোর্স এখন মাদক বিক্রেতা ; রূপগঞ্জে এক গ্রামেই ৩০ মাদক কারবারি

মোঃ রিপন মিয়া, রূপগঞ্জ : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানা পুলিশের সোর্সরাই জড়িয়ে পড়ছেন মাদক বিক্রির সাথে। মাদক বিক্রেতাদের ধরিয়ে দিতে গিয়ে তাদের সাথে গোঁপন আতাঁতের মাধ্যমে নিজেই হয়ে ওঠছেন মাদক বিক্রেতা। এতে সহযোগীতা করছে থানার কিছু অসাদু পুলিশ সদস্য। আবার উপজেলার বেশির ভাগই এলাকায় মাদকের সয়লাব থাকলেও থানা পুলিশ লোকবল সংকটের অযুহাতে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। এদিকে মাদক নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা কমে আসায় এমন সংকট তৈরী হয়েছে বলে রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ। এমনই ভয়াবহ চিত্র পাওয়া গেছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। এসবের মধ্যে রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বাড়িয়া ছনি গ্রামেই রয়েছে ৩০জনের অধিক মাদক ব্যবসায়ী। তাদের কেউ কেউ বিক্রি করে চোলাই মদ বা বাংলা মদ। আবার কেউ কেউ বিক্রি করে ইয়াবা নামীয় সর্বনাশা মাদক। সূত্র জানায়, গ্রামটির অবস্থান নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার শেষপ্রান্ত ও রাজধানীর সীমান্তবর্তী হওয়ায় সহজেই এখানে মাদক বিক্রি হয়ে থাকে। দিনদুপুরে রাস্তার পাশে বসে থেকে আগন্তুককে প্রশ্ন করতে শুনা যায়, মামা লাগবো! টাকা ফেলে যান মাল পাঠিয়ে দেব। আবার কোন প্রকার অপরিচিত লোকের যাতায়াত দেখলেই তারা গুটিয়ে নেয় তাদের অবৈধ মালামাল। রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ১নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন বলেন, প্রতিদিন মাদক ব্যবসায়ীরা বিভিন্নভাবে এ গ্রামে মাদক বিক্রি করে আসছে। গ্রামের সবাই জানে কারা এমন মাদকে জড়িত। গ্রামবাসি কিছু বলতে গেলে তাদের মামলার ভয় দেখায় তারা। এসব খবর থানা পুলিশও জানে । দুইএকবার মাদকসহ তারা ধরে আদালতে প্রেরণ করেছে। আদালত তাদের জেল জড়িমানাও করেছে। কিন্তু ওইসব মামলায় জামিন নিয়ে আবার মাদক ব্যবসা শুরু করে। সুত্র জানায়, বাড়িয়া ছনির চিহ্নিত ৩০ মাদক ব্যবসায়ীর মধ্যে রয়েছে, বাড়িয়া ছনি এলাকার ইয়াবার ডিলার দিল্লীপ, আহসানের ছেলে মজলু মিয়া, আতাউর রহমানের ছেলে রবিন, জালাল বেপারীর ছেলে মজনু, খোকন, আলমগীরের ছেলে স্বাধীন, মনির খন্দকারের ছেলে হৃদয় খন্দকার, জামির বেপারীর ছেলে শাহীন বেপারী, তমুর ছেলে সেলিম, ছনি এলাকার মমিন মিয়া,হামিদ মিয়ার ছেলে রাজু , ছনি এলাকার মৃতঃ ফরমুলার ছেলে সুমন, ছনি এলাকার মালা গাজার ডিলার। একই চিত্র, উপজেলার গুতিয়াব, পিতলগঞ্জ, মধূখালী, গুতিয়াব আগার পাড়ার তারাজুদ্দিনের ছেলে বাচ্ছু মিয়া, জুয়ারী আলমাছ, মাদক সম্রাট আ্ওলাদ, ভক্তবাড়ি এলাকার নিজামুদ্দিন, হিরন, ফিরুজ মিয়া, ব্রাহ্মণখালীর শরীফ, পিংলাইনের আনোয়ার হোসেনসহ বেশ কিছু সোর্সরাই এখন চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা হিসেবে পরিচিত। তাদের কাছে হাত বাড়ালেই পাওয়া যায়, ইয়াবা, গাাঁজা ও ফেনসিডিলসহ আমদানী নিষিদ্ধ বিয়ার ও মদ। তাদের অধীনে রয়েছে একাধিক চোলাই মদের কারখানাও । সূত্র জানায়, তারা শুরু থেকেই মাদক বিক্রির সাথে জড়িয়ে একাধিকবার পুলিশের হাতে মাদকসহ আটক হয়। সেখান থেকেই পুলিশের সাথে পরিচয়ের সূত্র ধরে হয়ে ওঠে পুলিশের সোর্স। তবে আইনের ফাঁকে ফেরিয়ে এসেই শুরু করে তাদের পুরোনো পেশা মাদক ব্যবসা। তবে সাথে যোগ করেন পুলিশের সোর্স হিসেবে বাড়তি ক্ষমতা। আর এই ক্ষমতাবলে নিরিহদের মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে , জমি বিক্রেতার টাকা খোয়ানোর কৌশলে ও স্থানীয় মাদকসেবীকেও মাদক বিক্রেতা সাজিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়াসহ নানা অপকর্ম চালায়। তাদের রয়েছে একাধিক জুয়ার মাঠও । অন্যদিকে প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোহারা, হপ্তা ইত্যাদি আদায় করে নিজের ভাগেরটা রেখে অসাদু পুলিশ সদস্যকে তা প্রদান করে। এতে নির্বিঘ্নে পরিচালিত হয় মাদক ব্যবসা। এসব বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহসিনুল কাদের বলেন, নতুন যোগদান করলাম এ থানায়। আমি বরাবরই পূর্বের কর্মস্থলে মাদকের বিরুদ্ধে থেকেছি। এখনো জিরো টলারেন্সে থেকে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের সকল সদস্যদের সোর্সদের দেয়া তথ্যেও যাচাই বাচাই করা হবে। তারা মাদক বিক্রিতে জড়িয়ে পড়লে তাদেরও আইনের আঁওতায় আনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এসব কাজে কোন পুলিশ সদস্য জড়িয়ে থাকলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে । রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ নুসরাত জানান বলেন, সরকারের দাপ্তরিক ব্যস্ততা থাকায় এতোদিন কিছুটা কম হলেও এখন আবার ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হবে। মাদক নিয়ে কোন আপোষ নেই।

Leave A Reply

Your email address will not be published.