২৪ ঘন্টাই খবর

৯৯৯ এ কল দিয়ে বিপাকে দখলবাজ

রূপগঞ্জে সাবেক সরকারী কর্মকর্তার পরিবারের দাপটে জিম্মি ২ গ্রামের শতাধিক জমি মালিক

রিপন মিয়া, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি ঃ

নাজমুল হক। একটি বাহীনিতে কর্মরত ছিলেন গ্রুপ ক্যাপটেন হিসেবে। ছিলো ক্ষমতা আর দাপট। তাই প্রভাব খাটিয়ে নামেমাত্র মূল্যে জমিক্রয় কিংবা ভেজাল ও বেদখল জমি আংশিক ক্রয় করে পুরো জমি দখলে নেয়াই ছিলো তার সম্পদের পাহাড় গড়ার হাতিয়ার। এসব নিয়ে ১ এগারো নামীয় সময়ের তত্তাবধায়ক সরকারের সময় দূর্ণীতির দায়ে এক বছর জেল খাটেন তিনি। তবে চাকুরী ফিরে পাননি আর। জেল থেকে বেরিয়ে শুরু হয় ভুমিদস্যুতা আর জবর দখল। সরকারী কর্মকর্তা থাকাকালীন নামে বেনামে শুধুমাত্র নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ক্রয় করেন ৪০ বিঘার অধিক সম্পত্তি। রয়েছে কলাবাগান, উত্তরা, টঙ্গিসহ দেশের বিভিন্নস্থানে স্থাপর অস্থাবর সম্পদ। এসব সম্পত্তির কিছুর অবস্থান রাজউকের অধীনে থাকা পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পঘেষা। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে পশ্বি ও টেকনোয়াদ্দা মৌজার এক শতক জমির বাজার মুল্য ১০ লাখ থেকে ৩০ লাখ টাকা। সড়কের পাশে কিংবা শহর সীমানা ঘেষা হলে সর্বোচ্চ শতক প্রতি ৩০ লাখ আর নিচু নাল এলাকার হলে সর্বনিম্নের ১০ লাখ টাকা। সে হিসেবে হাজার কোটি টাকার সম্পদ ক্রয় করে রেখেছে ওই নাজমুল হক। শুধু তাই নয়, প্রভাব খাটিয়ে অন্যের জমি জোর করে দখলে নেয় সে। আংশিক ক্রয় করে পুরো জমি দখলে নেয়ায় অন্য অংশের মালিক হয় বঞ্চিত। শুধু তাই নয়, দুদকে কর্মকর্তা তার ভাই ড. এনামুলের সঙ্গেও রয়েছে বিরোধ। এমনটাই মুঠোফোনে জানালেন এ প্রতিবেদককে। তিনি আরো জানান, নাজমুলের অত্যাচার থেকে তার ভাইবোন ও এমনকি গ্রামের লোকজন রেহাই পায়নি। তার আচার আচরনের জন্য তাকে একাধিকবার সাজা হয়েছিলো তার কর্মস্থলে। রূপগঞ্জ ইউনিয়ন ভুমি অফিস সূত্রে পশ্বি ও টেকনোয়াদ্দা‘র বাসিন্দাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, নাজমুল হক এতটি বাহীনির গ্রুপ ক্যাপটেন থাকাবস্থায় নামে বেনামে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের টেকনোয়াদ্দায় ১০ বিঘা, পশ্বি মৌজায় ৪০ বিঘার উপরে জমি আংশিক ক্রয় করে পুরো দখলে নেয়। এসব জমির বেশিরভাগই মালিকানা বিতর্কিত। যার কোনটিতে মালিক ভুয়া, কোনটির ওয়ারিশ রেখেই আংশিক ক্রয় করে পুরো জমি দখলে নিয়েছে। ভুক্তভোগী জমি মালিকদের দাবী, বৈধ ওয়ারিশ রেখে, কিংবা ৩ ভাইয়ের জমি থেকে ১ ভাইয়ের জমি ক্রয় করে পুরো জমি জোরকরে দখলে নিয়ে নেয় সে। সে সময় প্রতিবাদ করলেই বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহীনি ও ঢাকা থেকে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দিয়ে ভয়ভীতি দেখাতো। সূত্র জানায়, পশ্বি মৌজায় আরএস দাগ ৯২৪, ৯২৫ এবং ৮৫২ এর ৪৭ শতক জমি দখলে রেখেছে নাজমুল হকের পরিবার। কিন্তু ওই জমির বৈধ মালিক হিসেবে রূপগঞ্জ ইউনিয়ন ভুমি অফিসে নামজারীসহ কাগজে বহাল আছেন প্রীতি টাউন নামের একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই জমির জোত রেকর্ডীয় মালিক ছিলেন, পশ্বি এলাকার কৃষ্ণচরণ দাশ, লোলিত মোহন,ইন্দ্রমোহন গং। অভিযোগ রয়েছে, নাজমুল হক তাদের মধ্যে শুধুমাত্র লোলিত মোহনের অংশ ক্রয় করে ইন্দ্রমোহন ও কৃষ্ণ চরনদের জমিসহ সীমানা প্রাচীর করে দখলে নেয়। সে সময় ক্রয় সূত্রে মালিকগং দখলের প্রতিবাদ করায় তাদের মামলা দিয়ে হয়রানী করে নাজমুল ও তার বাহীনি। একইভাবে পশ্বি মৌজার ৯৩১, ৯৩৩, ৯৩২ দাগে ওই মালিকদের আংশিক ক্রয় করে পুরো জমি দখলে নেয় সে। আবার একই মৌজার আপ্তাবদ্দিন ও জুলহাসগং দের ১০ বোন ৪ ভাই জমির মালিক হলেও নাজমুল শুধুমাত্র এক ভাইয়ের অংশ ক্রয় করে ১০৪ শতক জমি দখলে নেয় নাজমুল। সূত্র জানায়, সে দাগে নাজমুলের ২৪ শতক ছাড়া বাকি পুরো জমি অবৈধ দখলে রেখেছে । একই মৌজার আরএস দাগ ৭৮৭ এর ৬৬ শতক জমি দখলে রাখলেও সে দাগে মালিক মাত্র ৩৩ শতকের। টেকনোয়াদ্দা গ্রামের মতিন ও মজিবুরদের কাছ থেকে ক্রয় করা ১০ বিঘা জমিতে একইভাবে ভিন্ন ক্রেতা রয়েছেন দাবীদার। ২০২১এর জুলাই মাসের দিকে করোনায় মারা যান তিনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিবার সূত্রে জানা যায়, নাজমুল হক করোনায় মারা গেলে লাশ দাফন করতেও পরিবারের লোকজন হাসপাতালে যায়নি। তবে নাজমুলের রেখে যাওয়া অবৈধ সম্পদ পুনরায় লুট করতে ওই পরিবারের নারী সদস্যদের বেপরোয়া সন্ত্রাসী মহড়ায় অতীষ্ট হয়ে যায় পশ্বি এলাকার বাসিন্দারা। উল্টো জোর করে দখলে রাখা জমিতে গ্রামবাসি বাঁধা দিচ্ছে এমন অভিযোগে পুলিশের জরুরী সেবা ৯৯৯ তে কল দেয় নাজমুলের স্ত্রী হাছিনা নিজাম ও তার মেয়ে জারাহ নিজাম। দিনে ৫ বারের অধিক পুলিশে খবর দিলে ঘটনাস্থলে এসে পুলিশ অভিযোগের কোন প্রমাণ পাননি। এতে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ বিব্রত হয়ে একাধিক সাধারন ডায়েরী করেন । ভুক্তভোগী জমি মালিক পশ্বি এলাকার বাসিন্দা আরমান মোল্লা জানান, পশ্বি মৌজার আরএস ৮৩২নং দাগে ১৮শতক জমিতে ক্রয়সূত্রে অপর অংশিদার তারেক আল মামুনসহ ভোগ দখলে নিয়োজিত ছিলেন। তাদের ওই জমিতে সীমানা প্রাচীর করতে গেলে বেআইনিভাবে পার্শ্ববর্তি আরএস দাগ ৮৪৮নং দাগে ৪১ শতকের ভোগ দখলদার রাজধানীর কলাবাগানের বাসিন্দা মৃত নাজমুল হকের স্ত্রী হাছিনা নিজাম ও তার সন্তানদের উপস্থিতিতে অজ্ঞাত আগ্নেয়াস্ত্রধারী ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীসহ ১৫ জনের অধিক লোকজন নিয়ে হামলা চালায়। এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এসব বিষয়ে জানতে চাইলে নাজমুল হকের স্ত্রী অভিযুক্ত হাছিনা নিজাম বলেন, আমার স্বামী নাজমুল হক কিভাবে জমি ক্রয় করেছেন সেটা আমার জানার বিষয় না। তবে যে জমি আমাদের দেখিয়ে গেছেন তাতেই দখলে যাবো, যাচ্ছি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রূপগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ বলেন, পুলিশের জরুরী সেবা ৯৯৯ থেকে কল পেয়ে জরুরীভাবে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য একাধিকবার ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। এছাড়াও ভুক্তভোগী জমি মালিকের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট সাবেক সরকারী কর্মকর্তার পরিবার যে অভিযোগে বারবার ৯৯৯তে কল দিচ্ছেন তাদের অভিযোগের সততা পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.