২৪ ঘন্টাই খবর

ঘরে ফেরেনি শিক্ষার্থীরা, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন চলবে

সড়কে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত আছে। টানা ২০ দিনের আন্দোলনের মাথায় বাসে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ঘোষণা আসে। শুধু ঢাকায় শিক্ষার্থীদের জন্য শর্ত সাপেক্ষে হাফ ভাড়ার এই ঘোষণা দিয়েছে বেসরকারি বাস মালিকরা। এর আগে সরকারি পরিবহন সংস্থা বিআরটিসির বাসে সারা দেশে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার ঘোষণা দেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
সূত্র জানায়, হাফ ভাড়ার জন্য বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে মালিক সমিতি। শিক্ষার্থীদের নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অর্ধেক ভাড়ার সুবিধা দেওয়া হবে। সরকারি, সাপ্তাহিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মৌসুমি ছুটির সময় অর্ধেক ভাড়া কার্যকর হবে না।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় বার্ষিক ছুটির তালিকা অনুযায়ী, সাপ্তাহিক ছুটি বাদে বছরে স্কুল-কলেজে ৮৫ দিনের ছুটি থাকে। বছরে ৫২টি শুক্রবার রয়েছে। সেই হিসাবে ৩৬৫ দিনের মধ্যে ১৩৭ দিন স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকে। বছরে তিনটি পরীক্ষার জন্য ৩৬ দিন সময় নির্ধারণ করা রয়েছে। সেই সময়ে শ্রেণিভেদে আরো কিছুদিন ছুটি পায় শিক্ষার্থীরা।
তবে রাজধানীসহ দেশের বড় বড় বেসরকারি স্কুল-কলেজে সাপ্তাহিক ছুটি থাকে দুই দিন। সে ক্ষেত্রে ৮৫ দিনের সরকারি ছুটিসহ তাদের বছরে মোট ছুটি থাকে ১৮৯ দিন। এসব স্কুল-কলেজ ৩৬৫ দিনের মধ্যে খোলা থাকে ১৭৬ দিন।
মূলত রাজধানীর শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমেছিল গণপরিবহনে অর্ধেক ভাড়ার (হাফ পাস) দাবিতে। এর মধ্যে ২৪ নভেম্বর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ির চাপায় নটর ডেম কলেজছাত্রের মৃত্যুর ঘটনার পর তা নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে রূপ নেয়। সোমবার রাতে রামপুরায় বাসচাপায় মাঈনুদ্দিন ইসলাম নামের আরেক শিক্ষার্থীর মৃত্যু তাতিয়ে দিয়েছে কোমলমতিদের। মঙ্গলবার সকাল থেকে রামপুরার রাস্তাটি বন্ধ করে রাখে তারা। বিক্ষোভ করে দিনভর। এ সময় তারা বাসেও আগুন ধরিয়ে দেয়।
আন্দোলনের ২০তম দিনে মঙ্গলবার মতিঝিল, ধানম-ি ২৭ নম্বর, মোহাম্মদপুর, খিলগাঁও ও বনানীতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ের সামনেও অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। এর আগের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মতো শিক্ষার্থীরা যানবাহনের লাইসেন্সও যাচাই করেছে। দিন শেষে নিরাপদ সড়কের দাবিতে ৯ দফার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা।
জানা যায়, মঙ্গলবার নটর ডেম কলেজের সামনে সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। শাপলা চত্বর এলাকায় বিক্ষোভ করে আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ সময় দুটি বাস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
মতিঝিল থানার ডিউটি অফিসার জানান, দুপুর সোয়া ২টার দিকে শিক্ষার্থীদের একটি মিছিল শাপলা চত্বর এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় বাস ভাঙচুর করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
বুধবারও সড়কে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। রাজধানীর রামপুরা ব্রিজে নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের লাইসেন্স না দেখাতে পারায় পুলিশ সদস্যদের একটি গাড়ি আটকে রাখা হয় বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। তাদের দাবি, খিলগাঁও সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাফিকে ধাক্কা দিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। এতে তিনি আহত হন।
বুধবার রাজধানীর রামপুরা ব্রিজে নিরাপদ সড়কের দাবিতে সড়ক অবরোধকালে এ ঘটনা ঘটে।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যদি ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকে তাহলে নিরাপদ সড়ক কীভাবে হবে। আমরা পুলিশের গাড়ির লাইসেন্স চেক করতে গেলে লাইসেন্স দেখাতে পারেননি। সেই সময় এক শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দেন এক পুলিশ সদস্য।
সূত্র জানায়, এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘পুলিশ ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে তাকে রামপুরা পুলিশ বক্সের সামনে নিয়ে আসেন। সেখানে কর্মরত অফিসারের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেন এবং তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। তবে উপস্থিত কর্মকর্তারা কোনো আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ওই পুলিশ সদস্যকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মুক্ত করে বক্সের ভেতরে নিয়ে যান। এরপর শিক্ষার্থীরা পুলিশ বক্স ঘিরে ফেলেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলা হয়, পুলিশের গাড়ির লাইসেন্স না থাকায় শিক্ষার্থীরা গাড়িটিকে জব্দ করেছে। তবে, শিক্ষার্থীরা যে দাবি করেছে লাইসেন্স না দেখিয়ে শিক্ষার্থীকে ধাক্কা দিয়েছে এটা আসলে সঠিক নয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা কাজ করছি।
আবার জানা যায়, রাজধানীর রামপুরায় বাসচাপায় শিক্ষার্থী মাইনুদ্দিন ইসলাম দুর্জয় নিহত হওয়ার জেরে বাস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দু’টি মামলা করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার করা মামলা দুটিতে অজ্ঞাত ৮০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বুধবার মামলা দুটির কথা সাংবাদিকদের জানান রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম।
ওসি রফিকুল জানান, বাসচাপায় শিক্ষার্থী মাইনুদ্দিন নিহত হওয়ার পর উত্তেজিত জনতা কয়েকটি বাসে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাত ‘উচ্ছৃঙ্খল ছাত্র ও জনতা’র নামে দুটি মামলা করে। একটি মামলায় ২৫০ থেকে ৩০০ জন এবং অপরটিতে ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
এ ছাড়া নিহত শিক্ষার্থীর মা রাশেদা বেগম বাদী হয়ে নিরাপদ সড়ক আইনে একটি মামলা করেছেন। এ মামলায় অনাবিল পরিবহনের বাসচালককে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে জানান ওসি।
সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে রামপুরা টিভি রোডের পলাশবাগ এলাকায় বাসচাপায় নিহত হয় মাইনুদ্দিন। সে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ফলাফলের অপেক্ষায় ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাইনুদ্দিন তার ভগ্নিপতি সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে রাস্তা পার হচ্ছিল। এ সময় অনাবিল পরিবহনের একটি বাস আরেক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে মাইনুদ্দিনকে চাপা দেয়। এতে সে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। মাইনুদ্দিন নিহত হওয়ার পর বিক্ষুব্ধ জনতা নয়টি বাস আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এ সময় আরও তিনটি বাস ভাঙচুর করা হয়। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন বাসচালককে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, যানবাহন ভাঙচুর করা তাদের কাজ নয়। অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত আছে।
বুধবার সকালে বিজয়ের মাসের প্রথম দিন বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ম্যুরাল এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ১২ তলা বিশিষ্ট অত্যাধুনিক ‘জয়িতা টাওয়ার’ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।
মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.