২৪ ঘন্টাই খবর

দোলায় স্বামীর ঘর কৈলাসে ফিরে যাবেন দেবী প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে ‘শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন

দোলায় স্বামীর ঘর কৈলাসে ফিরে যাবেন দেবী

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে ‘শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন

 

তুষার আহাম্মেদ- বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে গতকাল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ৫ দিনব্যাপী সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ‘শারদীয় দুর্গাপূজা’সম্পন্ন হয়েছে । তবে, প্রাদুর্ভাব কমলেও করোনার (কোভিড-১৯) কারণে, এবার বিজয়া দশমীতে শোভাযাত্রা হয় ।

এর আগে শুক্রবার সকালে দর্পণ-বিসর্জনের মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানো হয় । পরে বিকেল চারটা থেকে শুরু হবে প্রতিমা বিসর্জন। এর মধ্যদিয়ে শেষ হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব।

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার প্রতিটি মণ্ডপ ও মন্দিরে ঢাক-ঢোল, কাঁসর-ঘণ্টায়, ধূপ আরতি ও দেবী-দুর্গার পূজা-অর্চনায় কেবলই ছিল মায়ের বিদায়ের সুর। গতকাল দিনব্যাপী বিভিন্ন পূজামন্ডপে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং করোনামুক্ত বিশ্ব কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

চণ্ডীপাঠ, বোধন ও অধিবাসের মধ্যদিয়ে গত ১১ অক্টোবর থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হয়। পরবর্তী চারদিন সমগ্র জেলা ব্যাপী পূজামণ্ডপগুলোতে পূজা-অর্চণার মধ্যদিয়ে ভক্তরা দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন।

পুরাণ মতে, এই তিথিতে দেবী দুর্গার আর্শিবাদ নিয়ে লঙ্কার রাজা রাবণকে বধ করেছিলেন দশরথ পুত্র শ্রীরামচন্দ্র। , ১০৮টি নীলপদ্ম দিয়ে দেবী দুর্গার পূজা করেছিলেন রামচন্দ্র। তাই মহানবমীতে ষোড়শ উপাচারের সঙ্গে ১০৮টি নীলপদ্মে পূজিত হয়েছেন দেবী দুর্গা। নবমী সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত হয়েছে সন্ধিপূজাও।

সনাতন ধর্মমতে ধর্মাবলম্বীরা জানিয়েছেন, বিসর্জনের মধ্য দিয়ে কৈলাসে স্বামীর কাছে ফিরে যাবেন দুর্গতিনাশিনী মা দুর্গা। বিসর্জনের মধ্য দিয়ে মা দুর্গার সন্তান কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতীসহ চলে যান কৈলাসে স্বামীর ঘরে। তিনি আবার এক বছর পর নতুন শরতে ‘পিতৃগৃহ’এই ধরণীতে ফিরবেন। দেবী দুর্গা এবার এসেছিলেন ঘোড়ায় চড়ে, চলে গেলেন দোলায় বা পালকি চড়ে।

মন্দিরের প্রধান পুরোহিত কল্যান চক্রবর্তী সাংবাদিকদের বলেন, মহিষাসুর বধ করার মধ্য দিয়ে শুক্রবার বিজয়ী হয়েছেন দুর্গা মা। সে কারণেই আমাদের আনন্দের দিন, আমরা উৎসব করি। জাতি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ সবাইকে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানাই। বিসর্জনের সময় ‘দুর্গা মা কী, জয়’, ‘আসছে বছর আবার হবে’ বলে ধ্বনি দেওয়া হয়। ভক্তরা ঢাকের শব্দের সঙ্গে কাসার ঘণ্টা বাজিয়ে নৌকাযোগে প্রতিমাগুলো নদীতে বিসর্জন দেয়।

এাদকে, গতকাল জেলার বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শন করেন মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ,মুন্সীগঞ্জ (৩ )আসনের সংসদ সদস্য , মুন্সীগঞ্জ পৌর সভার মেয়র এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.